শ্যাম পুলক একটা কাক মেরেছে
শ্যাম পুলক একটা কাক মেরেছে
কাকটা প্রতিদিন ওর বারান্দায়
এসে কাঁ কাঁ করতো
সেটা ওর ভাল লাগেনি;
ও যেমন প্রেমিকার ঠোঁটে বিছা ছেড়ে দিয়ে সুখ পায়,
কাকটাকে ইদুরের বিষ খেতে দিয়েছে;
আমি ওকে বাঁধা দেইনি
আমি ওকে সান্ত্বনা দেইনি
বলিনি, পানি শূন্যতার কারণে ওরা উচ্চস্বরে কথা বলে,
উচ্চস্বরে হাসে;
কিন্তু ও কাকটা মেরে ফেলেছে
কিন্তু ওর শূন্যতা,
ফাঁকা বোধের কোন প্রতিকার হয়নি,
ও ওর নিঃসঙ্গতায় ভীতি দূর করার কোন মাধ্যম খুঁজে পায়নি
চিৎকার, উচ্চস্বর যে ওর মনে ভয় ধরিয়ে দেয় তার কোন সমাধান
ওর কাছে ধরা দেয়নি।
আমি ওকে সতর্ক করিনি,
প্রতিদিন ঘুমিয়ে যাবার আগ মুহুর্তে ওর পৃথিবীতে যে একটা
ভূমিকম্প হয়,
তখন ও যে ওর দালান চিড়ে ছয়তলা থেকে পড়তে পড়তে গহীন অন্ধকারে
চলে যায়,
একদিন ও আর সেখান থেকে ফিরতে পারবে না;
কিন্তু ও ওর পিতামাতাকে গালি দেয়,
বহু অজুহাত দেখিয়ে মিথ্যে আবেগ সৃষ্টি করে প্রেমিকাকে
নিয়মিত ধর্ষণ করে,
প্রেমিকা নিরুপায়;
কিন্তু ও অত্যাচারী হয়েও অত্যাচার থেকে মুক্তি পায় না;
তখন ও শূন্যে ফাঁকা গুলি ছোড়ে,
পোষা বিড়ালটার কান কেটে দেয়;
রাস্তা থেকে কুকুর ধরে এনে নির্যাতন করে;
অথবা ও বেশ্যার কাছে যায়, প্রতিদিন সঙ্গমের নতুন পদ্ধতির খোঁজ করে।
ওর প্রতি আমার করুণা হয়, কিন্তু ওকে
আমি তা বলতে পারি না;
ওর প্রতি আমার ঘৃণা হয়, কিন্তু ওকে আমি তা জানাতে পারি না;
ওর প্রতি আমার প্রবল রাগ হয়, কিন্তু আমি ওকে আঘাত করতে পারি না;
আমি যেন এক অদ্ভুত শিকলে বাঁধা,
যেন আমি নড়তে পারি না,
আমার ভাষা নেই
আমি শুধু দেখি,
শুনতে পাই,
ভাবি, সমাধান খুঁজে বেড়াই;
কিন্তু সমাধান খুঁজে পেলেও তা ব্যবহারের ক্ষমতা আমার নেই।
আর ও কাকটাকে পুড়ে খাবে ভেবে
পুড়েও খায়নি
বিড়ালটাকে খেতে দিয়েছে
ভেবেছে বিড়ালটাকে মেরে একদিন
কুকুরটাকে খেতে দেবে
কুকুরটাকে মেরে নিজে খাবার কথাও
ভেবেছে;
আবার ভেবেছে একটা শিয়াল পুষবে;
কিন্তু বাঘ, সিংহ পোষার ইচ্ছে হয়নি,
যদিও কাঁটাবনে বহুদিন শকুন খুঁজেছে
কিন্তু পায়নি;
তবে আমি ওকে চিড়িয়াখানা থেকে চুরির প্রস্তাব দেইনি।
আমি ওকে শুধু ওর হাতেই ছেড়ে
দিয়েছি।